Header Ads

Header ADS

আপনার হবু স্ত্রী প্রেগনেন্ট।

 আপনার হবু স্ত্রী প্রেগনেন্ট।



ডাক্টারের কথাটি শোনার পর মোটা ফ্রেমের চমমাটি খুলে টেবিলের উপর রাখলো সোহান।বেশ শান্ত গলাই বললো,,
--- ওনি কতদিন ধরে প্রেগনেন্ট?
--- প্রাই ৩ মাস।
কথাটি শুনে বেশ শান্ত গলাই সে ডাক্টারকে ধন্যবাদ জানিয়ে রিপোর্টটা নিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে এলো।ডাক্টার সাহেব বেশ অদ্ভুতভাবে সোহানকে দেখতে লাগলো।কেবিন থেকে বেড়িয়ে এসে সোজা চারুর কাছে চলে এলো সোহান।রিপোর্টটা হাতে নিয়ে বললো, ---- তেমন কিছু হইনি হয়নি শুধু একটু বমি আর পেট ব্যথার কারনে তোমার সমস্যা হয়েছে।
চেয়ারে বসে সোহান বেশ শান্তসুরে বললো,,
--- কিছু খাবে?
কোনো উত্তর না পেয়ে শার্টের বোতাম খুলে ফেললো।এসি রুমের ভেতর ও তার গরম লাগছিলো।পকেট থেকে ফোন বের করে বাবার কাছে ফোন দিয়ে বললো, বাবা তেমন কিছু হয়নি আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।এটা বলে পাশ থেকে একটা গোলাপ নিয়ে নাকে দিয়ে কিছুক্ষন তার সুবাস নিতে লাগলো যদিও গোলাপের কোনো সুবাস নেই।
ফেসবুক পেজ: নিঃস্বার্থ ভালোবাসা

কিছুদিন বাদেই তাদের বিবাহ।হটাৎ পাত্তপক্ষ দেখার সময় চারু অগ্গান হয়ে যাই।তাড়াতাড়ি তাকে হসপিতালে নিয়ে আসা হয় এবং তারপর সোহান কে খবরটা জানানো হয়।
পকেট থেকে রুমালটা বের করে মাথার ঘমগুলো মুছতে লাগলো।এর আগেও চারুর সাথে
বেশ কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে কিন্তু কেউ এটা নিয়ে ততোটা ভেবে দেখনি।চারু নিজেও এ বিবাহতে রাজি কিন্তু এভাবে এমন ঘটনা ঘটবে সেটা সোহান ভাবতে পারেনি।সোহান শহরের সবচেয়ে কোটিপতি আর একমাত্ত ডন এর শান্ত ছেলে।পেশাই সে একজন লেখক তবে প্রাই বাবার অফিসগুলোর কাজ তাকেই সামলাতে হয়।
.
একটা নার্স এসে সোহানের হাতে চারুর ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে যাই।চশমাটা চোখে লাগিয়ে বেশ কিছুক্ষন চোখ বুলিয়ে নিলো ফাইলে।ফাইলটা বন্ধ করে বেশ শান্ত সুরে বললো,,
--- রিপোর্ট চলে এসেছে চলুন আমরা এখুন বেরিয়ে পড়ি।
সোহানের কথাটা শেষ না হতেই চারু হনহন করে তার আগেই বেড়িয়ে পড়লো।সোহান ধীরে ধীরে রুম থেকে বেরোনোর সময় খেয়াল করলো সবাই তার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে রয়েছে।তাদের তাকানো দেখে সোহান মুখে একটা মিষ্টি হাসি এনে শান্তভাবে বললো,,
--- মেয়েটা বেশ রাগি।
এটা বলে রুম থেকে বাইরে এসে কড়কড়া রোদের মধ্যে পড়ে যাই।একটু হেটে গিয়ে পাশে একটা টং এর দোকান দেখতে পেলো।রুমালটা বের করে মুখটা মুছে টং এর দোকানে বসে বললো,,
ভাইয়া ২ টা পাউরুটি আর ২টা কলা দিন তো?
দোকান সোহানের কথা শুনে বেশ হতভম্ব হয়ে যাই।শহরের সবচেয়ে কোটিপতির ছেলে নিম্নমানের একটা সাদা চেক শার্ট পড়ে টং এর দোকানে দোকানে বসে
কলা খাবে এটা যে কেউ দেখলেই অবাক হবে।
দোকানদার পাউরুটি আর কলা দিয়ে যাবার পর সোহান ১ টা পাউরুটি আর ১ টা কলা পাশের একটা পাগলকে দিয়ে তার পাশে বসেই পাউরুটি মুখে দিলো।শহরের জ্যাম চলাকালীন সময় এ রকম একটা দৃশ্য লোকজন তাকিয়ে দেখলেও তার কোনো আসে যাইনা কারন সেই সকাল থেকে তার পেটে কিছুই পড়েনি।পাউরুটি মুখে পুড়ে সামনের বড় রেষ্টুরেন্টের দিকে তাকালো।তাকিয়ে দেখে চারু রেষ্টুরেন্টের ভিতরই রয়েছে তবে তার পাশে রয়েছে অন্য আরেকটা ছেলে।যদিও সে তার পাশে বসতে পারতো।
ফেসবুক পেজ: নিঃস্বার্থ ভালোবাসা
তবে সে নাকি একটা আনস্মার্ট ছেলে তার নাকি এইসব মেয়েদের পাশে বসা বারন।
অথচো সোহান সারাদিন তার জন্য দৌড়াদৌড়ি করার কারনে কিছু খেয়ে নেই যেটা জানাও পরেও কখনো মুখ ফুলে বলেনি চারু।
চারু শহরের বেশ নামকরা ঘরের মেয়ে।দেখতে যেমন সুন্দরি ঠিক ততোটাই সে অহংকারী।প্রচুর মেলামেশা আর ইনজয় ফ্যাশন আর আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলাটাই তার প্রতিদিনের নিত্যকাজ।সে সোহানকে একদম দেখতে পারেনা।তবে সোহানকে যে পছন্দ করে না এমনটা নয় বরং তার লাইফেও আরেকজন রয়েছে।
রেষ্টুরেন্টে চারু মুখে বার্গাই দাতেই সোহান উঠে গিয়ে দোকান থেকে আরেকটা পাউরুটি নিয়ে খেয়ে নিলো।পানির বোতল নিয়ে পানি দিয়েই পুরো পেট ভর্তি করে নিলো
চারু রেষ্টুরেন্ট থেকে বেরোতেই সোহান দোকানদারের কাছে গিয়ে,,
---ভাইয়া কত হয়েছে?
দোকানদাত ভিত কন্ঠে বললো ২৫ টাকা বিল হয়েছে।শহরের ডন এর ছেলে এইরকম সেটা দোকানদার বুঝতে পারেনি।
সোহান চুপিচুপি গিয়ে চারুর পাশে গিয়ে দাড়ালো।চারু বেশ কিছুক্ষন সোহান কে তাকিয়ে দেখে হি হি করে হেসে দিলো।সোহান ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে নিজের দিকে তাকাতেই দেখলো শার্টটা গরমে ভিজে একাকার।
--- কি বিচ্ছিরি?আচ্ছা এতো উচু লোক হয়েও আজকে এই পোশাক পরে আছেন?
--- সৃষ্টিকর্তা আমাদের কে যা দিয়েছে সেটাই বরাই করে কি হবে?গরিবদের বেশ না থাকলে গরীবদের মমতা কখনো বোঝা যাই?
--- ছি ছি গরিব অসহায় মানুষগুলো কি বিচ্ছিরি।দেখুন এর পর থেকে আমার সাথে দেখা করতে এলে সুন্দর ভাবে সেজে আসবেন।
--- ঠিক আছে।চলুন গাড়ির ভিতরে বসি এখানে প্রচন্ড রোদ।
চারুকে নিয়ে সোহান গাড়িতে বসে এসি টা ছেড়ে দিলো।সোহান কিছুক্ষন অবাক নয়নে চারুকে দেখতে লাগলো।কি সুন্দর মায়াবী মুখ অথচো মনটা কতো কঠোর।হটাৎ,,
--- শুনুন আপনি কি এই বিয়েটা অফ করতে পারবেন?
সোহান চারুর কথাই বেশ অবাক হয়ে যাই।দু মাস আগে ঠিক করা হয়েছে তাদের বিবাহ।অথচো আজকে বিয়ের কয়েকদিন আগে এই কথা?সবকিছুর আয়োজন কার্ড ছাপানো সবকিছু রেডি।তবুও সে নিশ্চুপ ভঙ্গিতে উত্তর দিলো,,
--- এটা নিয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।আপনি চাইলে নিজে থেকেই বিয়েটা অফ করে দিতে পারেন।
--- বাবার মুখের উপরে আমি কথা বলতে পারবো না।সে এই বিয়েটা দিবেই।
সোহান এই কথাটা বলার পর আর কিছু বললো না।অনেক্ষন ভাবার পর হটাৎ বলে উঠলো,,
--- আপনি কি কাঊকে ভালোবাসেন?
.
সবার আগে গল্প পড়তে Add / Follow হয়ে সাথে থাকুন।

No comments

Powered by Blogger.